আজ হায় রুবি রায় …

আজ হায় রুবি রায় …

পৃথিবীতে বেআক্কেল মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানে আস্ত পুরো গোটা একটা বেয়াক্কেল মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে সুযোগ বুঝে কেউ কেউ নিজে বেয়াক্কেল সেজে থাকে সময় বিষেশে। আর প্রায় সব মানুষই জীবনে দুয়েকবার বেয়াক্কেল হয়ে পড়েই। অতি চতুর মানুষ বেয়াক্কেল ইচ্ছে করেই হয়, আবার অল্প সল্প বেয়াক্কেলকে কেউ না কেউ বেয়াক্কেল বানায়।
আমিও তেমন দুয়েকবার বেয়াক্কেল হয়েছি। শুধু শুধু বেয়াক্কেল নয়, একেবারে ‘বেক্কল‘ হয়েছি।
তখন আমি খুব ব্যাস্ত। নাটক, বিজ্ঞাপন, শ্যুটিং, এডিটিং, লাইট ক্যামেরা, ফুরসৎ কম। তখনই একটা আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলো এক অভিনেত্রী। অল্প বয়স, শিক্ষিত, মার্জিত, প্রতিভাময়ী। ভীষণ ভালো বন্ধু। প্রতি দিন ফোনে কথা হয়। কে কোথায় কী কাজ করছি সব তথ্যই চালাচালি হয়।
একদিন ফোনে বললো পূবাইলে শ্যূটিং, মেজবাহ নামের এক নতুন প্রডিউসারের কাজ। আমি হেসে জানালাম, -না না মেসবা ভাই নতুন হবে কেনো। সেতো পুরাতন লোক এই ব্যবসায়ে। আমি তাকে চিনি তো!
অতএব ফোনে ধরিয়ে দিলো সুন্দরী নায়িকা। ওদিক থেকে পুরুষালী কন্ঠ, ‘হ্যালো!‘
-হ্যালো, কেমন আছেন মেসবা ভাই?
-ভালো আছি, আপকি কে?
খুব আগ্রহ জাগলো না মনে, মেজবা ভাই আমার গলা চিনলেন না! এ কেমন কথা? হেসে খিল খিল করে উঠে বললাম, ‘আরে মেজবা ভাই, আমি খোকন।‘
-কোন খোকন, ভাই।
-সরি, আপনি মেজবা ভাই বলছেন তো?
-জী হ্যা।
-আরে মেজবা ভাই, আমি খোকন বলছি।
-কোন খোকন?
-আপনি অমুক জায়গায় থাকেন না?
-হ্যা।
-আপনার এক পা তো ভেঙ্গে গিয়েছিল তাই না?
-হ্যা এখনও ভাঙ্গাই আছে, তাতে কী?
-আপনার ওয়াইফের নাম অমুক না?
-হ্যা।
-আপনার ভাগ্না অমুক, সে নাটক বানায়?
-হ্যা সে এখনো নাটক বানায়।
-আপনি অনেক আগে একটা নাটক বানিয়েছিলেন সৈয়দ মাহমুদ আহমেদকে দিয়ে মনে আছে?
-হ্যা কেন?
-সে নাটকটা লিখেছিল কে?
-কেনরে ভাই?
-নাটকটা লিখেছিলাম আমি এবং তার পরেও আপনার একটা নাটক লিখেছি, মনে পড়ছে না?
-নারে ভাই মনে পড়ছে না এখন।
আমি বেক্কল সেজে বললাল, ‘ও তাহলে আপনি সে মেজবা ভাই নয়, সরি।‘
প্রায় অনেক বছর পর আমারই এক সহকারী, বিজয়কে কথাটা বলছিলাম। বিজয় গল্পটা শুনে একটু মুচকি হাসলো। আমার দিকে তাকায় ও খুব করুনা মাখা দৃষ্টি নিয়ে। ‘আর আপনার সেই অভিনেত্রী বন্ধটা, কেমন আছে।‘ বললাম জানি না, অনেক দিন যোগাযোগ নেই। আমিও অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছ-সাত বছর। তার আগে থেকেই নাটক করা ছেড়ে দিয়ে শুধু বিজ্ঞাপন আর এজেন্সি নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম।‘
বিজয় বললো, ‘দাদা, মাস কয়েক আগে আপনার সেই বন্ধুর সাথে আমার দেখা হয়েছিঠল।‘
-আচ্ছা, তাই না কি? কেমন আছে ও?
-আমাকে দেখে বললো, ‘আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে!‘
বিজয় বললো, ‘আমি বললাম, আমাকে চিনতে পারছে না আপা, আমি খোকন ভাইয়ের এসিসটেন্ট ছিলাম। অনেক দিন। – কথা শুনে আপনার সেই বন্ধু বললো, কোন খোকন?‘

Image by StockSnap from Pixabay

Leave a Reply