ভোমা

ভোমা

রাতে লিখছিলাম। অতর্কিতে ভোমা টেবিলের আলোটার পাশে উঠে এসে বসে বললো, ‘ম্যাও, তুমিতো সাহিত্যিক হয়ে যাচ্ছ!‘ ভোমা আমাকে ম্যাও বলেই ডাকে।
সারাদিন ম্যাও ম্যাও করে ঘুরে ফিরে বেড়ায় আমার পায়ে পায়ে আর কিছুই বলে না। আমায় একা পেলে কথা বলে।
বললাম, ‘না আমি লিখছি।‘
ভোমা। তাই তো। সাহিত্যতো লিখেই করতে হয়, না কি!
আমি। সাহিত্য লিখেই হয় তবে লিখলেই সাহিত্য হয় না।
ভোমা মুখ গোমরা করে, ঘাড় বেঁকিয়ে, এক পা তুলে নিজের গোঁফে তা দিয়ে আমার কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে মিট মিট করে তাকিয়ে থাকলো। আমি আবার বললাম, ‘ভনিতা করো না। আমি জানি তুমি পড়তে জানো না।‘
ও ফিঁচ করে হেসে দিয়ে তাকালো আমার দিকে, ‘পড়ছি না দেখছি।‘
-কী দেখলে?
-দেখলাম, লিখছো না আঁকছো?
-আমি লিখছি।
ভোমা। তাইতো বললাম, সাহিত্য করছো?
আমি পেইন্ট বের করে কটা দাগ টেনে বললাম, ‘বলোতো ভোমা, এটা কী?‘
ভোমা আমার সুরের তালে তালে বললো, ‘ফালতু কটা দাগ।‘
আবারো কয়েকটা দাগ টেনে ওকে দেখালাম। ‘এবার বলোতো ভোমা এটা কী?‘
ভোমা দেখে। বলে, ‘এতো পাহাড়ের তলা দিয়ে একটা নদী এঁকে বেঁকে চলে গেছে। নদীতে একটা নৌকা।‘
আমি। হ্যা এই হলো লেখা আর সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য।

Image by Engin Akyurt from Pixabay

Leave a Reply