ভালো লাগা

ভালো লাগা

আজকাল ক্লাশ নাইন টেনের বাচ্চাদেরকেও একা একা স্কলে পাঠানো নিরাপদ নয়। গুন্ডা, বদমায়েশ, নেশাদ্রব্য প্রচারক আর পথের ট্রাফিকের ভয়ে। ইংরাজি মিডিয়ামে পড়া প্রাইমারীর বাচ্চাদেরতো নিয়ে আসতেই হয়।
ছেলে মেয়েদের স্কুলে দিয়ে গেটের পাশে স্কুল মাঠের এই ঝাকড়া পিপুল গাছটার নিচে মায়েরা বসে আড্ডা মারে স্কুল ছুটি পর্যন্ত। পাঁচ ছ জনে গোল করে বসা গল্প গুজব পরচর্চা। এমনই কয়েকটা দল। রূপচর্চা আর পরচর্চায় জুড়ি নেই এই দলের সাকেরার। আজো রফিককে আসতে দেখে সে বলে ওঠে। ‘ওহ্ এমাজিং, এমন হ্যান্ডসাম পুরুষ খুব একটা দেখা যায় না।‘
ওদের গোল করে বসা দলটার প্রায় সবাই ফিরে তাকালো সেদিকে এবং হুম বলে নিশ্বাসও ফেললো সাকেরা সহ আরো দুজন।‘
রফিক, বয়স চল্লিশের কোঠায় তবে এখনো দেখলে মনে হয় সাতাশ-আঠাশ বছরের অবিবাহিত পুরুষ। লম্বা একহারা ফিগারে লাগসই আকাশি টি-সার্ট, নীল জিন্স, কালো এক জোড়া স্নিকার আর সান-গ্লাসে আসলেই মনে হচ্ছে ‘আহ হা!‘
সে দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সাকেরা বলে ওঠে, ‘লোকটাকে একবার পেলে চেপে ধরে হাগ করতাম।‘
প্রথমার মা জানতে চায়, ‘ব্যাস এই টুকু?‘
সাকেরা অসহায়ের মতো কুপিতা নারীর ছল করে ঝন ঝন করে ওঠে, ‘তবে কি, হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবো বেডরুমে, শোয়ার জন্যে?‘
সবাই হো হো করে হেসে উঠলো ওর এই নির্লজ্জ অপারগতার কথা শুনে।
প্রথমার মা আবার জানতে চায়, ‘শুধু হাগ করলেই আপনি সন্তুষ্ট?‘
সাকেরা আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, ‘তাতেই হবে তবে পাবো কোথায়?‘
প্রথমার মা এবার নিশ্চিন্ত হয়ে বললো, ‘ও। তাহলেতো কোনো সমস্যাই নেই।‘ তারপর ঝট করে গেটের কাছে দাঁড়ানো রফিককে হাত নাড়িয়ে ঈসারা করে ঢেকে চিৎকার করলো, ‘এই যে শুনছো, এ দিকে একটু এসোতো…।‘

Image by PublicDomainPictures from Pixabay

Leave a Reply