আমি এখনো পেসেন্ট

আমি এখনো পেসেন্ট

প্রায় সাত বছর কেটে গেলো, অসুখ থেকে সেরে ওঠার পর, আজো সবাই আমাকে ব্রেন-হেমোরেজের পেসেন্টই বলে! আসলে কি আমি এখনো পেসেন্ট?
নিজে নিজে হাঁটতে পারি না ঠিক মতো। সবে হাঁটা শেখা শিশুর মতো টলে টলে হাঁটি। একজন না একজনকে ধরে হাঁটতে হয়। তাই বাথরুমেও একা যেতে পারি না। একজন দেখে বললো, ‘বাহ! আপনিতো ভাই বেশ ভালো আছেন। ‘ব্রেন হ্যামারেজে‘ পর সবাইকে দেখি বিছানা থেকেই উঠতে পারে না। আপনিতো, খোকনভাই, পড়া শোনাও করতে পারছেন, কম্পিউটারে কাজ করতে পারছেন। আবার বই-পত্র লিখছেন।!‘
‘আসলে, আমি ভালো থাকতে জানি। তাই ভালো আছি।‘
সে তাকিয়ে থাকলো, চোখে অবিস্বাশ। বললাম, ‘কম চাও, কম খাও। বেঁচে থাকবার প্রচুর ইচ্ছে পোষন করতে হবে এবং তা প্রতি নিয়ত আল্লাহতালাকে জানাতে হবে, প্রচুর কাজে ব্যাস্ত থাকতে হবে যেন হাতে মরবারও সময় না থাকে, মনে রাখতে হবে কাজ আসলে বাঁচার রসদ, আয়ের জন্যে কাজ হলো আলাদা রকমের — এই হলো ভালো থাকবার বীজমন্ত্র।
সে বললো, ‘কী বদলালো, হাঁটা আর বাথরুমের ব্যাপারটা ছাড়া?‘ বললাম, ‘আগে খুব মাংস আর পোলাও বিরিয়ানি খেতাম। আর এখন নিরামিষ। পোলাও বিরিয়ানি চলে এখনো তবে কম।‘
বললো, ‘আর কিছু?‘
বললাম, ‘হ্যা। আগে দোকানে গিয়ে বই কিনতে পারতাম, এখন কিনতে হয় অন-লাইনে।‘
বললো, ‘ওতো করোনার জন্য — আর কিছু?‘
বললাম, ‘আগে দু একজনের সাথে প্রেম করতে যেতে পারতাম। এখন আর সেটা পারি না।‘
সে বললো, ‘ ওটাওতো করোনার জন্য –আর কিছু?‘
বললাম, ‘তখন কথা বলার সময় ছিল না। আর এখন বক বক করার লোকের অভাব হয় না।‘
সে বললো, ‘ওটাও করোনার জন্য –আচ্ছা আজ আমি যাই।‘
বললাম, ‘করোনা গেলে আবার এসো।‘

Image by Free-Photos from Pixabay

Leave a Reply