সময়

সময়

স্থান সময় সুযোগ আর সঙ্গীর সুলভ্যতার কারনে আজকালকার রক্ষণশীল পরিবারের ছেলেমেয়েরাও কৌমার্যতা নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না। ভুল কিছু হয়ে গেলে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞন সে ভুলের মাশুল গুনে দেবে, সে ভরসাও আছে।
অতএব প্রীতি বাথরুম থেকে বেরিয়ে, আর সময় নষ্ট না করে বাইরে চলে যাচ্ছিল। সুজন তখনো বিছানায় ঠায় শুয়ে। সভ্য মনুষত্বের নির্দশন হিসাবে ছোট্ট একটা খয়েরী টাওয়েল কোমরের উপর ফেলে রেখেছে নিজের লজ্জাস্থানটুকু আড়ালে রাখবার জন্য। বললো, যাচ্ছো?
— যাই, দেখি থার্ড ক্লাসটা ধরতে পারি কিনা।
–তুমি তাহলে আমাকে বিয়ে করবে না?
–কেন অনর্থক নিজেকে কষ্ট দাও, সোনা!
–বিপ্লবের এমন কী আছে যা আমার নেই?
প্রীতি এতক্ষন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা চালাচালি করছিল। এবার কাছে এসে, পাশে বসে বললো, বলবো?
সুজন বলে, বলো।
প্রীতি এবার সুজনের ‘সবে ধন নীল মনি’ টাওয়েলটা একটান দিয়ে সরিয়ে ফেলে ওর শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে আঙ্গুল ঘোরাফেরা করাতে করাতে আবার বললো, বলবো?
–বলো।
–সত্যি, বলবো?
এবার সুজন দুশ্চিন্তায়ে পড়ে গেল, পুরুষালী কোন দৈন্যতার কথা বলবে নাতো! প্রীতি খুব ঠোটকাটা মেয়ে। ডিপার্টমেন্টের সবই জানে। মনে ভীষণ ভয় তবু বললো, বলো।
প্রীতি বললো, ওর মগজে বুদ্ধি বেশী।
কিছুক্ষণ পর সে চলে গেল। একা মেস ঘরে সুজন তারপরও তেমন শুয়ে। ভাবছে, বিপ্লবের আছে পড়া শোনার বুদ্ধি আর ওর আছে পৈত্রিক ব্যবসা আর ব্যবসায়িক বুদ্ধি। মনে মনে ভাবে প্রীতির মত একটা চিপ মেয়েকে ও কোন দিনই বিয়ে করবে না।
প্রীতি একটা রিক্সা নিয়ে একা একা যেতে যেতে ভাবতে থাকে, সূজন বা বিপ্লব, দুজনের কেউই ওকে বিয়ে করবে না ও বেশ ভালো করেই জানে। সময় কাটাবার জন্য দু’জনই ভালো। দু’জনের সাথে দুভাবে সময় কাটে। বিপ্লব লেখাপড়ায়ে হেল্প করতে পারে খুব। তবে বিয়ের জন্য মাহাবুবের মত, পয়সাওয়ালা ঘরের বোকা বোকা ছেলেই ভাল। প্রীতি আগে থেকে বুঝে শুনে মাহবুবের সাথে নিরেট বন্ধুর মতই মিশছে, বাঘের মুখে রক্তের স্বাধ দেওয়ার মত। ও হাসে মনে মনে, সুজন ওকে চিপ ভাবে, বিপ্লব ভাবে ও গাধা।

Image by Stefan Keller from Pixabay

Leave a Reply