You are currently viewing ‘দীর্ঘায়ু চাইনা, আনন্দায়ু দাও‘

‘দীর্ঘায়ু চাইনা, আনন্দায়ু দাও‘

কিছুজনকে দেখেছি গান শুনতে শুনতে অংক করে – ছবি আঁকে। আমি সাধারণত গদ্য পড়তেই ভালবাসি। গদ্য — একেবারে মৌলিক নির্ভাজ গদ্য। ইংরেজিতে যাকে বলে নন-ফিকশান (অবানোয়াট)। ফিকশন (বানোয়াট) পড়তেও ভালবাসি কারো কারো এবং কিছু কিছু লেখা। এ তো গেলো মূল পাঠের কথা। এর সাথে সারাক্ষণই কবিতা পড়তে হয়, গদ্যের কাঠিন্য থেকে মাঝে সাঝে বেরিয়ে আসবার জন্যে।

তেমনই হঠাৎ করে হাতে পেয়ে গেলাম ফারহানা আনন্দময়ীর কবিতার বই। সেও এক ভাগ্যলিখন। বাতিঘর আর রমকারিতে আমি চরে বেড়াই সময় পেলে, মাঠে হাঁটতে যাবার মতো। তেমনি সেদিন ঘেরিা ফেরা করছি, হঠাৎই একটা নামে আমার চোখ আটকে গেলো, দীর্ঘায়ু চাইনা, আনন্দায়ু দাও।
চুপ করে বসে রইলাম কিছুক্ষণঅ ঈশ্বরের সাথে যুদ্ধ করেছেন, এবং তার ক্ষমতাকে ভূলন্ঠিত করতে চেয়েছেন অনেক ভাষার অনেক কবি। তবে এভাবে মারফতি মেজাজে আবদার করাটা আমার কাছে ভালো লেগে গেলো। চিনি না জানি না, জীবনে এ কবির নামও শুনি নি এর আগে (সেটা আমার অজ্ঞতা) আনতে দিলাম বইটা। পরের দিন, মানে কাল রাতেই হাতে পেলাম। পড়ে ফেললাম ৬৪ পৃষ্ঠা ভরা কবিতা গুলো (প্রথম ৮টা পাতা বাদ)।

প্রথম লাইনেই — আমার গায়ে আকাঙ্ক্ষার জ্বর — শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভঙ্গি। কবিতার শেষ লাইন — আমাদের অ-সুখের সুখ। আমার ভালো লেগে গেলো। ভালবাসা, অভিমান, প্রতিবাদ, ঠিক-আছে-তাতে-কী ভাব। পাতা ওলটাতেই আকাশমুখি হাত। — পৌছুতে চেয়েছিলাম, পৌছুতে পারিনি, / পৌছুইনি; তাতে কি — অসম্ভব আত্মবিশ্বাস। কথা শেষ করেছেন এই বলে যে, মুঠোবাঁধা একটিমাত্র হাতও যদি / আকাশমুখী হয় / আমি তাকেই বলি, জয়। আর একটা কবিতায়, তাকিয়ে আছি গমনরেখার দিকে / মাধুর্যময়।

আমি সামান্য একজন পাঠক, আমি তাকিয়ে দেখি তাঁর আগমনী পথ, মাধর্যময়। ভীষণ মায়াময় তার সর্তকতা– কন্যা তুমি চিনে নিয়ো অর্ধাঙ্গর উষ্ণতা। তার কথায়, তাকে দেখে মনে হলো, সে-ই পারবে সঙ্গম থেকে উৎসে ফিরতে। — আমরা অধম, তাঁর ভাষা বুঝতে অক্ষম; তিনি বলেছেন — ভেতরে বাইরে আমি কোথাও এক অন্য দূর্গা।

Leave a Reply