You are currently viewing কাজী রাফি – একজন গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক

কাজী রাফি – একজন গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক

সুনীল কখনোই জানতেন না তিনি কবি হবেন, স্কুলে ছাত্র থাকা কালে ঈর্ষাবশতঃ কয়েকটা কবিতা লিখে ছিলেন; তারই একটা দেশ পত্রিকা ছেপে দেয়। তখনো তিনি জানতেন না যে বাংলার একজন উল্লেখযোগ্য কবি হয়ে উঠবেন তিনিই।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে তার প্রথম গল্প ‘আতসী মামি‘ লেখেন, লেখক হওয়ার কোনো ইচ্ছেই তার ছিল না তবু তিনি বাংলার একজন দিকপাল কথাসাহিত্যিক হয়ে উঠেছেন। জে কে রাওলিং নাকি তার বাচ্চাকে গল্প পড়ে শোনাবার জন্যেই তাঁর হ্যারি পোটার লেখা শুরু করেছিলেন।

এগুলো সবই ব্যতিক্রম এবং কালক্রমে ইতিহাস।

কাজী রাফিও বোধ হয় তেমনই একজন কথাসাহিত্যিক। বোধহয় বললাম কারণ তিনি তো এখনো তরুণ। পেকে পাকা লেখক হয়ে ওঠবার অনেকটা সময় তার হাতে আছে নিশ্চয়ই। আফ্রিকায় থাকাকালে সাসান্দ্রার প্রেমে পড়ে চাকরির অবকাশ সময়ে ‘ধূসর-স্বপ্নের সাসান্দ্রা’ লিখতে বসে অসম্ভব সাধন করেছেন। তার পরে তার বাংলা সাহিত্যে মহার্ঘ্য –’ত্রিমোহিনী’।

আমি তাঁর ছোটগল্পের কথা বলবো। এক সাথে পর পর কয়েকটা গল্প পড়ে ফেলা যায় না, অন্তত আমি পারি নি। একটা গল্প পড়ে অনেকক্ষণ সেটার মধ্যে আচ্ছন্ন থাকতে হয়। কখনো কখনো গোটা একটা দিন আর অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করতেও ভালো লাগে না। আবার অনেক সময় তাঁর গল্পের কিছুটা পড়েই বসে বসে চিন্তা করতে হয়।

তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, ‘যে ভালোবাসাকে নেওয়ার জন্য এই সমাজ প্রস্তুত নয় তাকে মহার্ঘ্য ভাবার অপরাধ আমার, মৌরি।‘

অসম্ভব বাস্তব এই সত্য কথাটুকু এভাবে কি কেউ কোথাও বলতে পেরেছেন? কাজী রাফি লিখেছেন, ‘শিক্ষকরা এখন বয়সী সব গাছের ডালের মতো। এ সমাজের ন্যুজ মূল্যবোধ ভেঙে পড়ার মতো। একটু ঝড়েই তারাও ভেঙে পড়েন। তাদের ঘরে আলো নেই। ঝড়-হাওয়ার বাদল দিন তারা। বৃষ্টি-জলে কান্না ধোয়া অভিযোজনে অভিযোজিত প্রাণি!‘ বা যখন তার এক নারী চরিত্র বলে,

‘খটকা তোমার লাগতেই পারে। বিনা পয়সায় অথবা শ্রমে কেউ আমাকে পেয়ে যাক তা আমি চাই না। আমি কারো আনন্দের পানসে স্মৃতি হতে চাই না। তোমার হৃদয়-ক্ষতের রক্তে লেখা সেই আমাকে একান্ত করে পাওয়ার চেয়ে এই অর্থমূল্য নিশ্চয়ই বেশি কিছু নয়।‘

তখন সাহিত্যে এমন ইস্পাৎদৃঢ় কথা মানুষকে জীবন বাস্তবতা নিয়ে চিন্তায় ফেলেই দেয়।

গল্প বলে যাওয়া এক কথা, তা সাহিত্যে হয়ে উঠলো কিনা সেটা একেবারে পৃথক কথা। লিখলেইতো আর তাকে সাহিত্য বলা যায় না, লেখার মধ্যের শিল্পগুন থাকাটাই সাহিত্য হয়ে ওঠবার জন্য অন্যতম প্রধান বিষয়।

Leave a Reply